সংবিধান সংশোধনের নিয়মাবলী ও তালিকা

জিকে পোস্ট - ২১৮ 

[১] সংবিধান সংশোধন করা হয়ে থাকে বিল দ্বারা যা কোন সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বারা এবং উপস্থিত সদস্যদের এক তৃতীয়াংশ দ্বারা এবং দুই সংসদে ভোট দ্বারা জারি করে রাস্ট্রপতির সামনে তার সম্মতির জন্য পেশ করা হয় ।
[২] বিল দ্বারা যে সংশোধনের অনুমতি চাওয়া যেতে পারে তা হল - ১। রাস্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি  ২। রাজ্যের কার্যনির্বাহী ক্ষমতার সীমা ৩। রাস্ট্রসঙ্ঘের এবং রাজ্যের বিধানতান্ত্রিক ব্যবস্থা ৪। রাজ্যে উচ্চ আদালতের প্রতিষ্ঠা ৫। বিধানতান্ত্রিক ক্ষমতার বিন্যাস ৬। সংসদে রাজ্যের প্রতিনিধি নিয়োগ ৭। সংবিধানের সপ্তম তফসিল অর্থাৎ রাষ্ট্রসংঘ , রাজ্য এবং সহাবস্থিত তালিকা নিয়ে কাজ  -এটি ও  পদ্ধতি ১-এর সাথে সাথে রাস্ট্রপতির সামনে বিলটি পেশ করার আগে অর্ধেক বিধানসভার সদস্য দ্বারা যে রেজোলিউশান পাশ করা হয় তার দ্বারা সংশোধন করা হয় ।
[৩]একটি বিল যার প্রয়োজন ১। কোনো রাজ্যের ক্ষেত্র বৃদ্ধি বা কমানো ২। রাজ্যের সীমার নামবদল ৩। রাজ্যের ব্যাবস্থা পরিষদের গঠন বা রদ করা ৪। পঞ্চম তফসিলের সংশোধন শুধুমাত্র সংশোধোনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন
এটা বিশেষভাবে লক্ষ করতে হয় , যেসমস্ত নিয়মাবলী সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে তাদের সংশোধন রাজ্যের অনুমোদন থাকলে তবেই করা যায় , অন্যান্য সংবিধানে সংশোধোন শুধুমাত্র কেন্দ্রের হাতে , রাজ্য কোনো সংশোধোন করতে পারে না ।
প্রথম ২৫ টি সংশোধনের তালিকা নীচে দেওয়া হল -
  • প্রথম  ১৯৫১  (ক) সামাজিক এবং শিক্ষাগত দিক দিয়ে অনগ্রসর শ্রেনিসমূহের জন্য                         
                      বিশেষ ব্যাবস্থা অবলম্বনের ক্ষামতা সরকারকে দেওয়া হয়।
              (খ) সংবিধানে ১৯নং ধারা অনুযায়ী বাক স্বাধীনতা ও মতামত
                  প্রকাশের অধিকারের উপর রাষ্ট্রের যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপের                 
                   ক্ষামতা।
                  (গ) সংবিধানের ৩১নং ধারাটির (সম্পত্তিগত অধিকার সম্পর্কিত)
                   সহিত নতুন দুটি ধারা যুক্তকরন।
  • দ্বিতীয় ১৯৫২  প্রতি পাঁচ লক্ষ অধিবাসী পিছু একজন লকসভার সদস্য নির্বাচিত হবেন।
  • তৃতীয় ১৯৫৪  সংবিধানের সপ্তম তপশিলে বর্ণিত যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়সমূহের তালিকার
            ৩৩নং বিষয়ে কতগুলি নতুন বিষয় সংযুক্ত হয় এই সংশোধনী দ্বারা।
            মানুষ ও পশুখাদ্য, তুলা, পাট প্রভুতি যুগ্মতালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • চতুর্থ ১৯৫৫  জমিদারি বিলোপ সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর রাষ্ট্রের
            নিয়ন্রন অধিকতর বৃদ্ধি। রাষ্ট্রের জনস্বার্থে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিগত
            সম্পত্তি অধিগ্রহনের ক্ষামতা লাভ করে।
  • পঞ্চম ১৯৫৫  সংবিধানের তৃতীয় অণুচ্ছেদটির আংশিক পরিবর্তন। রাস্ত্রপতিকে ক্ষামতা
            দেওয়া হয় ‘রাজ্যের নাম ও সিমানার’ পরিবরতনজনিত আইন প্রনয়নের
            ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মতামত প্রদানের সময়সিমাকে নির্দিষ্ট করে দিতে।
  • ষষ্ঠ ১৯৫৬   আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয়ের উপর
            কেন্দ্রীয় সরকার কর ধার্যের ক্ষামতা লাভ করে।
  • সপ্তম ১৯৫৬   কতগুলি নতুন রাজ্যর অভ্যুদয় এবং কয়েকটি রাজ্যের সীমানার
            পুনর্গঠন।
  • অষ্টম ১৯৬০  লোকসভা ও রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে তপশিলী জাতি, তপশিলী উপজাতি
              এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ভুক্তদের জন্য আসন সংরক্ষণের মেয়াদ
              বৃদ্ধি (১০ থেকে ২০ বছর)।
  • নবম ১৯৬০  সংবিধানের প্রথম তপশীলের পরিবর্তন করা হয়। বেরুবাড়ী প্রভুতি অঞ্চল
              পাকিস্তানকে হস্তান্তরের জন্য সংশোধনীটি করা হয়।
  • দশম ১৯৬১  দাদরা ও নগর হাভেলি (পর্তুগীজ অধিনতা হতে মুক্ত) ভারতের রাষ্ট্রের
           সাথে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রিশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পায় এই সংশোধনী দ্ধারা।
 
  • একাদশ ১৯৬১   রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় নির্বাচনী সংস্থার কোনো
             সদস্যপদ শূন্য থাকলেও নির্বাচন অবৈধ বলে বিবেচিত হবে না।
  • দ্বাদশ ১৯৬২   পর্তুগীজ দের অধিনতা থেকে মুক্তো গোয়া, দমন, দিউ ছিটমহলকে
             ভারতীয় ইউনিয়নের (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়)
             সহিত যুক্ত করা হয়।
  • এয়োদশ ১৯৬২  নাগাল্যান্ড একটি পূর্ণ স্বতন্ত্র রাজ্যের মর্যাদা পায়।
  • চতুর্দশ ১৯৬২  ফরাসী অধিকৃত পন্ডিচেরী মুক্ত হয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা
             লাভ করে।
             কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জন্য আইনসভা ও মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যবস্থা।
                        এই অঞ্চলগুলি লকসভার সদস্যসংখা ২০ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ করা হয়।
  • পঞ্চদশ ১৯৬৩   হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স যথাক্রমে
             ৬২ ও ৬৫ করা হয়।
  • ষষ্ঠদশ ১৯৬৩  পার্লামেন্ট ও রাজ্যের আইসভার প্রতি নির্বাচনে প্রার্থীকে দুটি বিষয়ে
             শপথ নিতে হবে। একটি ভারতরে সংবিধানের প্রতি আনুগত্য ও
             অপরটি দেশের সার্বভৌমিকতা ও অখন্ডতা অক্ষুন্ন রাখা।
  • সপ্তদশ ১৯৬৪   ভূমি সংস্কার কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন
             করা হয় এবং ভূসম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমাও নির্দিষ্ট করা হয়।
  • অষ্টাদশ ১৯৬৬  ভাষার ভিত্তিতে পাঞ্জাব রাজ্যের পুনর্গঠন। চন্ডিগড়কে পৃথক
             কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দান।
  • ২১-তম ১৯৬৭   সংবিধানের অষ্টম তপশিলে সিন্ধি ভাষার অন্তরভুক্তকরন।
  • ২৪-তম ১৯৭১   মৌলিক অধিকারসহ সংবিধানের যেকোনোও অংশ পরিবর্তনের অধিকার
              সংসদকে প্রদত্ত করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংশোধনী বিলে
              সম্মতি দিতে বাধ্য থাকবেন।
  • ২৬-তম ১৯৭১   দেশীয় ন্রিপতিদের পদ, রাজন্যভাতা ও অন্যান সুজগ-সুবিধা বিলোপ
              করা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post